রফতানি কোটা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে ভারতীয় চিনি মিল

ব্রাজিল থেকে সম্প্রতি চিনি সরবরাহ বেড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যটির দরপতন হয়েছে।

ব্রাজিল থেকে সম্প্রতি চিনি সরবরাহ বেড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে পণ্যটির দরপতন হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে ভারতীয় সরবরাহ। চলতি মৌসুমে দেশটি থেকে চিনি রফতানি আট লাখ টনের নিচে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সরকার নির্ধারিত ১০ লাখ টনের কোটা পূরণে ব্যর্থ হবে মিলগুলো। দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও খাত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি মৌসুমে উদ্বৃত্ত মজুদ কমাতে ও অভ্যন্তরীণ দামের স্থিতি বজায় রাখতে ভারত সরকার জানুয়ারিতে ১০ লাখ টন চিনি রফতানির অনুমোদন দেয়। তবে মৌসুমের শুরুতে কিছু চুক্তি হলেও পরবর্তী সময়ে রফতানির গতি মন্থর হয়। ব্রাজিলের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ফিউচার মার্কেটে চিনির দাম চার বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মিলগুলো এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত লাখ টনের চুক্তি করেছে। যার মধ্যে ৭ লাখ ২০ হাজার টন চিনি এরই মধ্যে রফতানি হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মাসে আরো ২৫ হাজার টনের বেশি চিনি রফতানি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোট রফতানি দাঁড়াবে আনুমানিক ৭ লাখ ৭৫ হাজার টনে।

তাদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে খুব অল্পকিছু চুক্তি হয়েছে। রফতানি কমে যাওয়ায় মিলগুলো ভারত সরকারের কাছে বাকি প্রায় দুই লাখ টন নতুন মৌসুমে রফতানির অনুমতি চাইতে পারে।

সাধারণত এশিয়ায় পরিবহন ব্যয় কম হওয়ায় ভারতীয় চিনি ব্রাজিলের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক থাকে। তবে সম্প্রতি ব্রাজিল টনপ্রতি ২৫ ডলারের বেশি কম দামে চিনি রফতানি করছে। একই সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে মিলগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের বদলে দেশের বাজারে চিনি বিক্রি করছে বেশি।

ভারত মূলত আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে চিনি রফতানি করে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত গড়ে ৬৮ লাখ টন রফতানি করে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রফতানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছিল।

ভারতের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন মৌসুমে (১ অক্টোবর থেকে শুরু) বর্ষার ভালো বৃষ্টির কারণে ভারতের চিনি উৎপাদন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে দেশটি থেকে সামনের দিনগুলোয় রফতানি আরো বাড়তে পারে।

আরও